সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৩

পাখি


পাখি

তখন বয়স হবে আমার আট কি নয়। অন্যদের বয়স বার তের এর মত হবে। সম্রাটজাবিরসহ সমবয়সী বন্ধুরা এক শীতের রাতে পরামর্শ করলো খেজুর রসের পায়েস খাওয়া হবেǀ সবাই কিশোরতাই যেই ভাবনা সেই কাজǀ রসের কোন অভাব নেইǀ কারন চুরি করলে ঢের পাওয়া যায়ǀ রস নিয়ে ভাবনা নয়,  ভাবনা হল আতপ চাল আর নারকেল নিয়েǀ চাল থাকে ঘরেসবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চাল চুরির কাজটি মহাকঠিন কাজǀ কারন পুরো বিষয়টিই জানাজানি হয়ে গেলে  পুরো  মিশনটিই ভন্ডুল হয়ে যাবে। আর শীত কালে নারকেলের অফ সিজন। আমি বরাবরই অকর্মাএকটু বেশী নাদুস-নুদুস হওয়ায় কাজও করতে পারিনা। তাই এ দলে আমার খুব একটা গুরুত্ব নেই। অধিকাংশ পরামর্শই আমার সামনেই হচ্ছে আমাকে অবজ্ঞা করেই। সেলিম বলল , জিল্লু যেহেতু আমাদের কোন কাজেই আসছেনা,   দলের সদস্য থাকতে হলে চাল তাকেই দিতে হবে। জাবির বললও থাকলে সকল চুরিই ভেস্তে যায়,  ধরা খাওয়ার উপক্রম হয়,  তাই ও না থাকলেও চলবে। অচেনা এক অভিব্যক্তি প্রকাশ করে সেলিমকে চোখ মারল। সবাই এক যোগে হেসে উঠল

নিজেকে খুবই ছোট মনে হতে লাগল। মনে মনে ভাবলাম,  চুরি নিশ্চয়ই অনেক সাহসী ও মহৎ একটা কাজ। এ জগত সংসারে আমার কোন মূল্যই নেই!  যাই হোক আজ আমাকে চুরি করতেই হবেএ উদ্দেশ্যে চুপিচুপি ঘরে গেলাম। আতপ চাল থাকে মটকায়,  তার পাশে একটা খাট,  দাদী ওখানে ঘুমায়। তিনি আবার চোখেও দেখেন না। পা টিপে টিপে মটকার কাছে গেলাম। হঠাৎ.. 
এতো রাতে কি করছিস ভাই ?
আপনি বুঝলেন কি করে?
তোর গায়ের গন্ধ পেয়ে
বুড়ি গায়ের গন্ধ ভা্লই পায়

এখানে কাজ হবেনা বুঝলাম। কি করা যায-
পাশের বাড়ির এক দুলাভাই এর কাছে গেলাম। রস চুরিপায়েস রান্না,  নারকেল ও আতপ চালের যাবতীয় সমস্যার কথা বললাম। মধুর এক হাসি দিয়ে তিনি বললেনচাল আমি দিতে পারি,  তবে চুরির ভাগ যে দিতে হবে ভাইয়া। এ ভাই টি কে পৃথিবীর সেরা মানুষ বলে মনে হল। বয়সে প্রায়  আমার  বাবার সমান হলেও তিনি একেবারেই ছেলে মানুষ। তাঁর কাছ থেকে সুগন্ধি আতপ চাল নিয়ে বন্ধুদের বললাম,  চুরি করেছি। আমি একজন সফল চোর হিসেবে বাহবা পেলাম

এবার নারকেল চুরির প্রস্তুতি। কেউই নারকেলের যোগান দিতে না পারায় সিদ্ধান্ত হলপাশেই একটা যুগী বাড়ি। দিনের বেলায় জাবির ওদের গাছে শুকনো নারকেল দেখেছে। সবাই একমত হল যে করেই হোক, ওই নারকেলই চুরি করতে হবে

বেশ কিছু সময় ধরে সম্রাট শাহজাহান শুধু ফাই-ফরমায়েশ দিয়ে মাতব্বরী করে যাচ্ছেন। ভাবটা এমনতিনি বয়সে বড়,  তাই তাঁর এসব ছোট-খাট চুরির কাজ করা সাজেনা। ফন্দি আঁটলাম,  ওনার মাতব্বরী ছুটাতে হবে। তাই মওকা মত সবার সামনে বলে বসলাম
যেহেতু সম্রাট বয়সে বড়বিপদে তিনি পরম বন্ধুতাই উনাকেই গাছে উঠতে হবে। দাঁত খিচিয়ে চোখ লাল করে আমার দিকে একবার তাকালেন,  কিন্তু সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হওয়ায় সম্রাটের মুখ
ফ্যাকাসে হয়ে যায়। বিরক্তির চেয়ে সম্রাট যেন বেশী ভিতু হয়ে উঠলেন। নিরুপায় সম্রাট ভয়ে ভয়ে বললেনরাতে যদি গাছে ভুত থাকে ! সেলিম বিজ্ঞের মত বললো,  সব গাছে ভুত থাকেনা। নারকেল গাছেতো নয়ই। তাছাড়া দোয়া-কালাম পড়ে বুকে ফু দিলেই চলে। নিরূপায় সম্রাট বললেনদেখ ভাইআমি কিন্তু ভয় পাইনা। সমস্যা হল,  আগামী বছর আমি ক্লাস সিক্সে উঠবো। তোদের বন্ধুদের মধ্যে এখনো কেউ হাই স্কুলে যায়নি। আমিই তোদের মুখ উজ্জ্বল করতে যাচ্ছি। এখন যদি কোন বিপদ হয়তো!.. ..

বড় ভাইয়ের কাহিল অবস্থা দেখে জাবির বিব্রত। অনেক কষ্টে বলল,  আপনি তো ভয়ই পাচ্ছেন,  সাহস থাকলে গাছে উঠুন। কারো কোন সহানুভূতি না পেয়ে সম্রাট ভাই বুকে ফু-দিয়ে গাছে উঠা শুরু করলেন। সেই সাথে হুকুম করলেন,  আমরা যেন ওনার জন্য দোয়া
পড়তে থাকি

 সম্রাট গাছে উঠছেনআর বিরক্ত হয়ে ধমক দিলেনদোয়া পড়ছিনা কেন ! গাছের মাঝ বরাবর উঠেই হঠাৎ কিহল,  সম্রাট আতংকের সুরে দোয়া ইউনুস পড়তে লাগলেন। ক্রমেই দোয়ার সুর অতিশয় করুন হয়ে উঠল। কিছু বুঝে উঠার আগেই তিনি দ্রুত বেগে গাছ থেকে নামতে লাগলেন। অল্প একটু উঁচু থেকে পড়েই সম্রাট চিৎফটাং। ফিট হওয়ার আগে সংক্ষেপে বললেন, ..... ভুত

সেলিমের হাতে তিন ব্যাটারীর একটা টর্চ ছিল। সাবধানে গাছের মাথায় আলো ফেললে দেখা গেলসত্যি একটা সাদা ধূতী পরা ভুত। মুখে হরিহরিআর দুহাত করজোড়ে কাঁপছে। বুঝতে বাকী রইলনা,  সে যুগী বাড়িরই রনা (রনজিত)। সেলিম বললমামাতুমি এতো রাতে গাছে কেন ?
দাদা বাঁচাও , ভগবানের দিব্যি লাগে আস্তে কথা বল, লজ্জায় মরি

একটু আগে যে সম্রাট আধা মরা হয়ে পড়েছিলেন,  তিনি এখন যেন সাম্রাজ্য ফিরে পেলেন। ভয়ংকর ধমক দিয়ে হুকুম করলেন,  নারকেল সহ আয় নেমে। দেখাচ্ছি তোর চুরি করা। রনা নারকেল
সহ নেমে এলো। জাবির বীরবিক্রমে ঠাস করে মারলো এক চড়। 
কানে ধর,  হুকুম সম্রাটের
নাজেহাল রনা শুধু করজোড়ে বলে যাচ্ছে,  আমরা যেন চুরির কথা প্রকাশ না করি

রনার তাৎক্ষণিক বিচার পক্রিয়া শুরু হল। অভিযোগ আনা
হলসে নিজের বাড়িরই নারকেল চুরি করেছে। এ অপরাধ কোন ক্রমেই ক্ষমাকরা যায়না। অনেক কথার পরে রায় ঘোষনা হলঠিক আছে , আমরা তার চুরির কথা ফাঁস করব না। যেহেতু,  রনা চুরিতে ধরা খেয়েছে,  তাই তাকে রস চুরি করে দিতে হবে। নারকেল কেটে কুরিয়ে দিতে হবে। বাকী সমস্ত কাজ রনাকেই করতে
হবে। সেলিম বলল,  এলাকায় চুরি-চামারী বেড়ে যাওয়ায় আমরা দল বেঁধে পাহারা দিচ্ছি। রনা বিনীত স্বরে বলল,  আপনারাইতো ভবিষ্যতের কান্ডারী। কত মহান আপনারা। নিজের খেয়ে অন্যের মালামাল পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের  পরম  সান্নিধ্যে এসে এই অধম কিঞ্চিত জ্ঞান লাভও করেছি সম্রাট কৌতুক বোধ করল নিজেদেরকে কোন কাজ করতে হবেনাতাই তৃপ্তির সুরে জিজ্ঞাসা করল,
তুই তো দেখছি বেশী কথা বলিস কি জ্ঞান লাভ করলিরে?
রনা  বলল,  এই  ধরুন,  অন্যের  বাড়িতে চুরির চেয়ে নিজের বাড়ির কিছু চুরি করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ তাছাড়াচুরির শাস্তি হিসেবে চোরকে কাজ করে দিলেই সব ঠিক হয়ে যায় সহজ সরল সম্রাট কিছু না বুঝেপরম গর্বের একটা ভাবনিয়ে  রনার কাজের তদারকি করতে লাগল

        আমি কিন্তু ঠিকই জানিরনা কিন্তু একটা কঠিন চিজ এখন বেকায়দায় পড়ে কাজ করে যাচ্ছে আর চিকন সুরে কথা বলছে সময় মত এর শোধ সে ঠিকই নিয়ে নিবে। 

          সকাল বেলায় দেখা গেলনারকেলের ছোবড়া গুলো সব জাবিরদের ঘরের সামনে

পরদিন দুলাভাই বললেনআমরা যে রনাকে দিয়ে কাজ করিয়েছি,  তা
তিনি সব আড়াল থেকে দেখেছেন। পুরো বিষয়টিই তিনি উপভোগ করেছেন। আরও জানালেন,  আমরা উনার গাছের রসই চুরি করে ছিলাম। উনি আড়ালে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলেন। লজ্জায় লাল হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, আমাদের তখন কিছু বলেন নি কেন ?
তিনি বললেন, তাতে উল্টো সমস্যা হত। আমরা অন্যের রস চুরি করে গালি শুনতাম, ধরা পড়তে পারতাম, চুরির কাজটা কখনো ভাল না, বরং যুগী বাড়ির চুরির কাজটা খুবই অন্যায় হয়েছে।

যুগী বাড়ির কালাচাঁদ কাকুর কাছ থেকে আমাদের দুধ রোজ নেয়া হয়। দুধ আনতে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে যায়। গিয়ে দেখি কালাচাঁদ কাকুর মেয়ে পাখি রানীর মন খারাপসে স্কুলে আমার সহপাঠিনী মাঝে-মধ্যে গোপনে আমাকে নারকেলের নাড়ু খাওয়ায় জিজ্ঞাসা করে যা বুঝলাম,  তার সার কথা হল আজ হাঁটে নারকেল বিক্রি করে তাদের চাল কেনার কথা। ঘরে চাল নেই,  তাই তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। বুকের ভিতর ধক করে উঠলো। এ আমরা কি করলাম। যে মেয়েটি ক্লাসে আমার পাশে বসার জন্য ব্যাকুল থাকেকিছু একটা খাবার আমাকে না দিয়ে খায়নাআজ সে না খেয়ে থাকবে !
ঘরে এসে দাদীর কাছে,  দাদাভাইর কাছে কিছু মিথ্যা গল্প সাজিয়ে টাকা চাইলাম। উনারা বিশ্বাস তো করলেনই নাবরং হাসলেন। কোন উপায় অন্তর না পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলাম। মাকে করুন আর্তি দিয়ে বললামমাপাখি না খেয়ে থাকবে কিছুতেই হতে পারেনা  না খেয়ে থাকলে আমিও না খেয়ে থাকব

মমতাময়ী মায়ের চেহারায় বিশ্ময় আর খুশীর অভিব্যক্তি ফুটে উঠলো। কাপড়ের খুঁট থেকে বেশ কিছু টাকা বের করে বললেনযাএ টাকা গুলো দিয়ে আয়। তোর কাকুকে বাসায় আসতে বলবি

আজ কত বছর পেরিয়ে গেছে,  মা বেঁচে নেই। দুলাভাইও বেঁচে নাই। পাশের যুগী বাড়িটা থাকলেও,   যুগীরা নেই। সব বিক্রি করে ইন্ডিয়ায় চলে যায়। পাখি রানীরা যে রাতে ইন্ডিয়ায় যায়তার আগের দিনপাখি আমাকে বললআমরা যে রাতে তাদের নারকেল চুরি করেছিলামসে সব জানত ভিষন লজ্জা পেয়ে শুধালামসবাইকে বললে না কেনসে বললতাহলে যে জিল্লু মিয়া নারকেল চোর হয়ে যেত সারাটা বিকেলআমার সাথে ছিলআমাদের ঘরের রান্না সে কখনো খায়নিআজ সে নিজে চেয়ে খেয়েছে  কি যেন বার বার বলতে চেয়েছিলকিন্তু বলতে পারেনি। 







বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৩

First Exam in my life


জীবনের প্রথম পরীক্ষা!
স্কুলে ভর্তি হবার মাস পরেই স্কুলে পরীক্ষা শুরু হল। জীবনে প্রথম পরীক্ষাতাই খুব ভাবে ছিলাম। বড়দের মত আমিও পরীক্ষা দেবনিজেকে কিছুটা বড় বড় বলে মনে হতে লাগল। ব্যাপারটা অনেকটা  রকম যেবড়রা যা করে আমিও তাই করতে যাচ্ছি। আনন্দে নাচতে ইচ্ছে করছে। কলম পেন্সিল গুছিয়ে মাকে বললামমা যাই। মা বললেনতোর দাদাভাইকে সালাম দিয়ে যা। সালাম দিতে হবে কেন! মনে মনে কিছুটা জটিলতা অনুভব করলামএখানে সালাম দেয়ার কি আছে। কিন্তু দাদাভাইকে সালাম দেয়ার পর পুরো ভড়কে গেলাম। দাদাভাই দুহাত তুলে খোদা তায়ালার কাছে কান্না-কাটি করছেনআমার পরীক্ষা যেন ভাল হয়। দাদাভাই’র কান্না-কাটি দেখে বুঝলাম, পরীক্ষা কোন সাধারণ ব্যাপার নয়। টের পেতে থাকলাম, কিছুক্ষণ পর স্কুলে যেটা ঘটতে যাচ্ছে সেটা জীবনের এক বড় বিষয়। গলা কিছুটা শুকিয়ে আসছে। দাদার দোয়ায় যদি কাজ না হয়তো পরিনতি কি হবেনিশ্চয়ই খারাপ কিছু হবেতা না হলে দাদা কাঁদলেন কেনঅজানা আশংকায় মন টা দূরু দূরু করতে লাগল। অন্যমনষ্ক হয়ে পড়লাম। প্রমাদ গুনলাম, হায় খোদাকিভাবে এ  কঠিন সময় পার করব ? পরীক্ষা না দিলে কি এমন হয়। দুনিয়ার সকল লেখাপড়া যদি পরীক্ষা ছাড়া হতকি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হত। পথে যেতে যেতে জাবির এর বড়ভাই সম্রাট শাহজাহান ধমক দিলেনআস্তে হাঁটছি কেন।দেরী হলে ভট্রাস বাবুর বেত একটাও মাটিতে পড়বে না। ভট্রাস বাবু কি জিনিষ তা আমি কিছুটা হলেও টের পেয়েছি। মনে হচ্ছে পরীক্ষার দেরী হয়ে যাচ্ছে। বিপদ ঘনিয়ে আসছে বলে মনে হল। শুদ্ধ করে দোয়া-কালাম পড়তে লাগলাম। কোন দোয়াই শুদ্ধ করে পড়া হয়না। তবুও বলতে লাগলামখোদা পরীক্ষা যখন ঠেকানো যাচ্ছে নাতুমি আমার জীবনের সকল পরীক্ষার সময় অসুখ বাধিয়ে দিও। যাতে পরীক্ষা দিতে না হয়। সম্ভব হলে এখনি যেন একটা অসুখ দিয়ে দেনতাহলে বাড়ি গিয়ে ফকিরকে একটা টাকা দিব।

কখন যে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছেটেরই পাইনি। কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় কিভাবে শুরু করতে হবেবুঝতে পারছিনা। ঘন্টা পড়ার শব্দ শুনলামবলা হল বেশী সময় নেই। কান্নাকাটি শুরু করে দিলাম। সিনিয়র সম্রাট শাহজাহান ভাই আমার প্রতি সদয় হলেন। কিভাবে কি করতে হয় যতই বুঝানকাজ না হওয়ায় তিনি নিজেই আমাকে লিখে দিতে শুরু করলেন। এই মহান ব্যক্তিটিকে আমার ত্রাণ কর্তা বলে মনে হল। পরম মমতায় মহামতি সম্রাট শাহজাহান লিখে যাচ্ছেনচরম কৃতজ্ঞতায় আমি আহ্লাদে গদ গদ হয়ে দেখে যাচ্ছি। বিগলিত হচ্ছিআর ভাবছিআচ্ছা শাহজাহান ভাই এমন শুকিয়ে যাচ্ছেন কেনআজকেই বাড়ি গিয়ে মাকে বলে উনাকে পিঠা খাওয়াব। কিন্তু নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর। পিঠা যে কখন পিটা হয়ে উনার পিঠে পড়বে কে জানতো।
জাবির তার ভাইকে সতর্ক করলভট্রাস আসছেন।
এসেই ভট্রাস স্যার রুদ্রমূর্তি ধারন করলেন। আধা তোতলা ভট্রাস স্যার রেগে গেলে ধূতির কোঁচা ডলতে থাকেন,আর নাক কুঞ্চিত করে চোখ দুটি নাচাতে থাকেন। এসব দেখার পরম সময় হাতে নেই। এসেই ধড়াস করে সম্রাটের পিঠে দিলেন কষে একটা বেত। ঘটনার আকষ্মিকতায় মহামতি সম্রাট চাকতির মত গোল হয়ে সব মার হজম করতে লাগলেন। আর স্যারস্যারস্যারআমি না !!!করে যতই আমার দিকে নিরীহ আঙ্গুল তুলছেনততই আমি স্কুলের ভাঙ্গা বেড়ার দিকে ধাবিত হচ্ছি। ভয়ংকর ভট্রাস মহোদয় বেত নিয়ে এগুতেই দেই লাফবেড়ার ওপাশে ময়লা ডোবায় পড়েই দে ছুট। পরীক্ষার গুষ্টি কিলাই। দুইটা ষন্ডা মার্কা ছাত্রকে ভট্রাস হুকুম করলেনধরে আন।

একটা বিপদ না কাটতেই আরেক বিপদ। গভীর শুপারির বাগান ভেদ করে বাড়ি যাব কি করে। শেয়ালের ভয়। আজ কোন দোয়াই কাজে আসে নি।শাহজাহান ভাই এর কথা মনে পড়ল। আমার প্রতি তাঁর কি প্রতিক্রিয়া হয় অনুমান করতে পারছি না। মাকে কি বলব এসব টেনশনে  সব চিন্তায় স্কুলে কখন যে পরীক্ষা শেষ হয়েছে বুঝতে পারিনি।

মা বলেছেনবিপদে ভয় পেতে নেইঅনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। তবে কতদূর যেতে পারবো জানিনাযেই বাগানের পথে ঢুকছিওমনি আমার মহান সম্রাট শাহজাহান আস্ত একটা মোটা লাঠি নিয়ে রন হুংকার দিলেন আয়......... !

রীতিমত দোয়া ইউনুস পড়া শুরু করলাম। ........

যা হোক... ভাগ্গিস দাদাভাই এগিয়ে নিতে এসেছিলেনতাই রক্ষে